২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দাম বাড়বে ৭ শতাংশ

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দামে ঊর্ধ্বগতি আগামী বছরও অব্যাহত থাকবে। বাজারে সরবরাহ কম ও চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় ২০২৬ সালে দেশটিতে বাড়ির দাম বাড়তে পারে প্রায় ৭ শতাংশ।

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দামে ঊর্ধ্বগতি আগামী বছরও অব্যাহত থাকবে। বাজারে সরবরাহ কম ও চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় ২০২৬ সালে দেশটিতে বাড়ির দাম বাড়তে পারে প্রায় ৭ শতাংশ। ১৫ জন সম্পত্তি বিশেষজ্ঞকে নিয়ে রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে এ পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

কভিড-১৯ মহামারীর সময় দেশটিতে বাড়ির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছিল। পরে অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদহার বাড়ালে দাম ৯ শতাংশ কমে যায়। তবে ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর ফলে আবারো ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে। অক্টোবরে দেশটিতে বাড়ির দামের গড় মধ্যমা (মিডিয়ান হোম প্রাইস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৮ লাখ ৭২ হাজার ৫৩৮ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় সুদহার নিকট ভবিষ্যতে ৩ দশমিক ৬০ শতাংশে স্থির থাকবে। এতে বাড়ির দাম দেশের মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে।

জরিপ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির গড় দাম চলতি বছর বাড়বে প্রায় ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে বাড়বে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের জরিপে এ দুই বছরের পূর্বাভাস ছিল যথাক্রমে ৫ ও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ এবার বাড়ির দাম বাড়ার পূর্বাভাস আগের তুলনায় অনেক বেশি সংশোধন করা হয়েছে।

সিডনি, মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন ও পার্থের মতো বড় শহরে আগামী বছর বাড়ির দাম বাড়তে পারে ৫-৭ শতাংশ। রিয়েল এস্টেট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইয়ার্ডনি বলেন, ‘সুদহার কমায় ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। তাই অনেক ক্রেতা ভাবছেন যে এখনই না কিনলে পরবর্তী সময়ে হয়তো বেশি দাম দিতে হতে পারে।’

তিনি জানান, অভিবাসী ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া মানুষের চাহিদা এখনো বেশি। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাড়ির দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমে যেতে পারে।

প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হচ্ছে। বাজারে বিক্রির জন্য যে বাড়িগুলো তালিকাভুক্ত হয়, তার সংখ্যা কম। মজুরি প্রবৃদ্ধি দুর্বল ও ঋণ নেয়ার নিয়ম কঠোর হওয়ায় তাদের কেনার সক্ষমতাও কমছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য বার্ষিক আয়ের প্রায় আট গুণ।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক রিয়েল এস্টেট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরবিসের পরিচালক মার্ক ডসন বলেন, ‘উচ্চ ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মাঝারি মজুরি প্রবৃদ্ধি সঞ্চয়ের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।’

সরকার প্রথমবার বাড়ি কিনতে ৫ শতাংশ ডিপোজিটে কেনার সুযোগ দিলেও বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ সংকট না কাটলে চাহিদা আরো বাড়বে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১২ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের অঙ্গীকার করেছে। তবে হাউজিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মরিস তাপাং বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে ১২ লাখ বাড়ি তৈরি করা অসম্ভব। এমনকি এ সংখ্যা চাহিদা মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়।’

আরও